ওরাল ম্যালোডোর (oral malodor) বা হ্যালিটোসিস (Halitosis) বা মুখের দুর্গন্ধ
ওরাল ম্যালোডোর(oral malodor) বা হ্যালিটোসিস (Halitosis) বা মুখের দুর্গন্ধওরাল ম্যালোডোর বা হ্যালিটোসিস বা মুখের দুর্গন্ধ জনিত সমস্যা যা জনসংখ্যার 30% পর্যন্ত প্রভাবিত করতে পারে। হ্যালিটোসিস, অপ্রীতিকর বা দুর্গন্ধের উপস্থিতি, সারা বিশ্বে একটি সাধারণ সমস্যা।
কারা হ্যালিটোসিস বা মুখের দুর্গন্ধ জনিত সমস্যায় ভোগেন?
ওরাল ম্যালোডোর বা হ্যালিটোসিস বা মূখের দুর্গন্ধ জনিত সমস্যা সব মানুষকে প্রভাবিত করতে পার। এটি যখন গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন এটি একজন ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস হ্রাস করতে পারে এবং সামাজিক মেলামেশায় ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে।
হ্যালিটোসিসের সম্ভাব্য কারণ কী?
হ্যালিটোসিসের সাধারণ কারণঃ
মুখের রোগ
• খাদ্যের প্রভাব
• নেক্রোটাইজিং আলসারেটিভ জিনজিভাইটিস (Acute necrotising ulcerative gingivitis)
• মাড়ির প্রদাহ (Acute gingivitis)
• পেরিওডোনটাইটিস (Adult and aggressive periodontitis)
• পেরিকোরোনাইটিস
• ড্রাই সকেট
• জেরোস্টোমিয়া
• মুখে ঘা
• মুখের ম্যালিগন্যান্সি/ ক্যান্সার
শ্বাসতন্ত্রের রোগ
• Foreign body এর উপস্থিতি
• সাইনোসাইটিস
• টনসিলাইটিস
• ম্যালিগন্যান্সি
• ব্রঙ্কিক্টেসিস (Bronchiectasis)
উদ্বায়ী খাদ্যদ্রব্য (Volatile foodstuffs)
• রসুন
• পেঁয়াজ
• মশলাযুক্ত খাবার
এছাড়া-
Volatile sulphur compounds (VSCs) - মিথাইল মারকাপ্টান, হাইড্রোজেন সালফাইড এবং ডাইমিথাইল সালফাইড
ডায়ামাইনস
Putrescine, cadaverine
শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড
বীউটারিক অ্যাসিড, প্রোপিওনিক অ্যাসিড
ফিনাইল যৌগ
ইন্ডোল, স্কটোল, পাইরিডিন
হ্যালিটোসিসের সম্ভাব্য সিস্টেমিক কারণঃ
• তীব্র জ্বরজনিত অসুস্থতা (Acute febrile illness)
• শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ (সাধারণত উপরের) ( Upper Respiratory tract infection)
• হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি সংক্রমণ (?)
• ফ্যারিঙ্গো-ইসোফেজিয়াল ডাইভার্টিকুলাম
• গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ
· পাইলোরিক স্টেনোসিস
• হেপাটিক ফেলিওর (fetor hepaticus)
• রেনাল ফেলিওর (শেষ পর্যায়)
• ডায়াবেটিক ketoacidosis
• লিউকেমিয়া
• ট্রাইমেথাইলামিনুরিয়া
• হাইপারমেথিওনিনেমিয়া
• ঋতুস্রাব
এছাড়াও প্রায় 5% ক্ষেত্রে কিছু ব্যক্তি ক্রমাগত হ্যালিটোসিসের অভিযোগ করেন কিন্তু তাদের পরীক্ষা করেও কোন লক্ষণ নির্ণয় করা যায় না
। এই তথাকথিত "হ্যালিটোফোবিয়া" এর জন্য মানসিক সহায়তার
প্রয়োজন হতে পারে।
হ্যালিটোসিসের মৌখিক উৎস কি?
জীবাণু দ্বারা কোষ, লালা রক্ত এবং খাদ্যাবশেষের পচনের ফলে মূলত মুখে দুর্গন্ধ হয়। । এই জীবাণুগুলি সাধারণত গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া-
Prevotella (Bacteroides) melaninogenica, Treponema denticola, Porphyromonas gingivalis, Porphyromonas endodontalis, Prevotella intermedia, Bacteroides loescheii, Enterobacteriaceae, Tannerella
Forsythensis (Bacteroides forsythus), Centipeda periodontii, Eikenella cor-
rodens, Fusobacterium nucleatum vincentii, Fusobacterium nucleatum nucleatum, Fusobacterium nucleatum polymorphum, and Fusobacterium.
প্যাথোজেনেসিসঃ
হ্যালিটোসিস হয় এপিথেলিয়াল কোষের উপাদান, লালা, সিরাম প্রোটিন, এবং খাদ্য ধ্বংসাবশেষের ওপর ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়া দ্বারা সৃষ্ট উদ্বায়ী malodourous যৌগের ফলে। প্রচুর আণবিক যৌগের অবদান রয়েছে এই দুর্গন্ধ সৃষ্টির জন্য। উল্লেখযোগ্যভাবে যে সমস্ত যৌগ গুলিকে প্রাধান্য দেওয়া হয় সেগুলি হল- উদ্বায়ী সালফার যৌগ, মিথাইল মারকাপ্টান, হাইড্রোজেন সালফাইড এবং ডাইমিথাইল সালফাইড ।VSC উৎপাদনের ক্ষেত্রে, ব্যাকটেরিয়া সালফারযুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড সিস্টাইনের উপর কাজ করে। সিস্টাইন এবং মেথিওনিন যা পাওয়া যায় প্রোটিওলাইসিসের মাধ্যমে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি সাধারণত দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকে ক্রনিক পেরিওডোনটাইটিসে (chronic periodontitis ) সাবজিনজিভাল প্লাকের সাথে। প্রকৃতপক্ষে বেশী পরিমাণ VSC -র উপস্থিতি জিনজিভাইটিস বা পিরিয়ডোনটাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির পেরিওডোনটাল পকেট, এবং জিনজিভাল ক্রেভিকুলার তরলে লক্ষ্য করা যায়। তবে এই ব্যাকটেরিয়াগুলি জিহ্বার ডরসাম সারফেস থেকেও প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেতে পারে। জিহ্বার ডরসাম সারফেস এই অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়াগুলির বৃদ্ধির জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ প্রদান করে। জিহ্বার আবরণে (Tongue coating) desquamated এপিথেলিয়াল কোষ, খাদ্য ধ্বংসাবশেষ, ব্যাকটেরিয়া এবং লালা প্রোটিন থাকে যা VSC এবং অন্যান্য যৌগের উৎপাদনের জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ প্রদান করে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে ম্যালোডোর এর সাথে যুক্ত হতে পারে এরকম
গ্রাম নেগেটিভ অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়ার লালা এবং জিহ্বার আবরণে উপস্থিতির উপর নির্ভর করে। জিহ্বার আবরণ (tongue coating) ব্যক্তিদের মধ্যে যথেষ্ট পরিবর্তিত হতে পারে, পেরিওডোনটাইটিস রোগীদের মধ্যে এটি বৃদ্ধি পায়।
হ্যালিটোসিসের ক্লিনিকাল মূল্যায়নঃ
সাব্জেক্টিভ পদ্ধতি
• তীব্রতা - অর্গানোলেপটিক পদ্ধতি
• আলাদাভাবে মুখ ও নাক থেকে নির্গত বাতাসের গন্ধ পাওয়া
• করা সহজ, কোন ক্লিনিকাল প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই
• গুণমান—হেডোনিক পদ্ধতি
• কদাচিৎ চিকিৎসাগতভাবে প্রযোজ্য
• ভাল প্রশিক্ষিত ক্লিনিকাল বিচারকের প্রয়োজন
অব্জেক্টিভ
• উপযুক্তভাবে সালফাইড সনাক্তকরণ ও
মনিটর করা- সহজ, কিন্তু অ-সালফাইড উপাদান দ্বারা সৃষ্ট ম্যালোডোর সনাক্ত করতে ব্যর্থ হতে পারে
• গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি—রুটিন ক্লিনিকাল প্র্যাক্টিসের জন্য প্রযোজ্য নয়
· ব্যাকটেরিয়া সনাক্তকরণ (যেমন
benzoyl-arginine-naphthylamide পরীক্ষা, পলিমারেজ
চেইন প্রতিক্রিয়া, অন্ধকার ক্ষেত্রের মাইক্রোস্কোপি)- রুটিন ক্লিনিকাল প্র্যাক্টিসের জন্য প্রযোজ্য নয়।
হ্যালিটোসিসের চিকিৎসাঃ
• সম্ভাব্য সিস্টেমিক রোগের চিকিৎসা
• ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিয়ে ওড়াল হাইজিন মেনটেইন করুন।
• নিয়মিত ভাবে জিহ্বা পরিষ্কার করা উচিৎ।
• অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল টুথপেস্টের নিয়মিত ব্যবহার এবং
মাউথওয়াশ, যেমন- ক্লোরহেক্সিডিন গ্লুকোনেট, ট্রাইক্লোসান/কো-পলিমার/সোডিয়াম ফ্লোরাইড টুথপেস্ট
• নিয়মিত ক্লিনিকাল ওরাল হেল্থ চেক আপ।
• হ্যালিটোফোবিয়া এর জন্য ক্লিনিকাল সাইকলজিস্টের পরামর্শের প্রয়োজন।

Comments
Post a Comment